শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন
রাতের আঁধারে বিজিবির রক্তাক্ত অভিযান, চোরাকারবারীদের পাল্টা হামলা!
অনলাইন ডেস্ক
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর সীমান্তে গতকাল রাতে ঘটে গেলো এক রুদ্ধশ্বাস, রক্তাক্ত এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক ঘটনা। রাত আনুমানিক ২টার দিকে নাজিরগোমানী বিজিবি ক্যাম্পের একটি নিয়মিত টহলদল স্থানীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় টহল চালানোর সময় ভারতীয় সীমান্ত থেকে আসা একদল মাদক চোরাকারবারীর মুখোমুখি হয়। এই চোরাকারবারীরা মোটরসাইকেলযোগে মাদকদ্রব্য বহন করে শূন্যরেখা অতিক্রম করেই বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে।
টহলদলের নেতৃত্বে থাকা নায়েব সুবেদার হাছিবুর রহমান দ্রুত পরিস্থিতি অনুধাবন করে চোরাকারবারীদের ধাওয়া দেন। বিপদ আঁচ করতে পেরে তারা ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের মোটরসাইকেল জব্দ করতে গেলে পরিস্থিতি রীতিমতো পাল্টে যায়। ঘটনাস্থলের আশেপাশের কিছু স্থানীয় সহযোগী ও চিহ্নিত চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের ওপর আচমকা হামলা চালায়। এই সংঘবদ্ধ হামলায় গুরুতর আহত হন দুই বিজিবি সদস্য—অনুপ কুমার (২৯) এবং মনিরুজ্জামান (২৯)। হামলার তীব্রতায় তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয়রা আহত বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানান, তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও হামলার ধাক্কা ছিল ভয়াবহ। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এ ঘটনার জেরে বিজিবি রোববার দুপুরেই পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার বাদী হিসেবে রয়েছেন নায়েব সুবেদার হাছিবুর রহমান। মামলায় জগতবেড় ইউনিয়নের কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং আরও কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পাটগ্রাম থানার পুলিশ। থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক স্বপন কুমার সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান কার্যক্রম চলে আসছে। বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও সংঘবদ্ধ চক্রের দাপটে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। শুধু গত কয়েক মাসেই এই সীমান্তে অন্তত পাঁচটি বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা, যারা মাদক চোরাকারবারীদের পক্ষে গিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পিছপা হয়নি। এখন প্রশ্ন একটাই—কতদূর গেলে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আর কতজন সৈনিককে রক্ত দিতে হবে এই দেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে?
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক চোরাকারবারী চক্র কেবল সীমান্ত পারাপারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের মোকাবিলায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের কঠোর সমন্বিত পদক্ষেপ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনসচেতনতাও এখন সময়ের দাবি।